Sunday, February 19, 2012

সংবাদ মাধ্যমের কাছে বাংলাদেশ ব্ল্যাকহ্যাট হ্যাকার্সের বার্তা

আমরা স্বাধীনতাবিরোধী নয়, ধর্মীয় সন্ত্রাসী নয়… আমরা দেশের জন্য কাজ করছি..
* পররাষ্ট্রমন্ত্রী দিপু মনি-কে বলছি- এভাবে মিথ্যাচার না করলেও পারতেন। আমরা কোনোভাবেই স্বাধীনতাবিরোধী নয়।

* মোস্তাফা জব্বারকে বলছি- যে ভারত আপনাকে তাদের দেশে যাওয়ার ভিসা দেয় না, সেই ভারতের জন্য কেন দালালি করেন? আর কত দালালি করবেন আপনি?

আমরা বাংলাদেশের সাইবার যোদ্ধা। সীমান্তে দেশের নাগরিকদের নিরাপদ জীবনের দাবিসহ বেশ কয়েকটি উদ্দেশ্যে ভারতের সঙ্গে ‘সাইবার যুদ্ধ’ ঘোষণা করেছি। আমাদের যুদ্ধ চলছে, একের পর এক ভারতীয় ওয়েবসাইট আক্রমণ করে চলেছি।

কেন আমাদের সাইবার যুদ্ধ?

আমাদের সাইবার যুদ্ধগুলোর পিছনে যে দাবি রয়েছে সেগুলো হল:

১. বিএসএফ কর্তৃক সীমান্তে নিরীহ বাংলাদেশী হত্যা কর বন্ধ করতে হবে। দেখামাত্র গুলি করা কোন সভ্য জাতির আচরণ হতে পাওে না। আমরা তাদের কাছ থেকে মানবিক আচরণ চাই। আমরা বলতে চাই, সীমান্তে আর কোন বাংলাদেশি নাগরিকের লাশ যেন না পড়ে।
২. টিপাইমুখ বাঁধ বন্ধ করতে হবে।

৩. তিস্তা পানি বণ্টন চুক্তি স্বাক্ষর করতে হবে।

৪. আমরা চাই ভারতীয় কোন টেলিভিশন চ্যানেল আমাদের দেশে আসবে না, যদি আসে তাহলে আমাদের সবকটি টেলিভিশন চ্যানেলকে পুরো ভারতে চালানোর ব্যবস্থা করতে হবে।

৫. বাংলাদেশ বিরোধী বিএসএফ-এর সব কর্মকাণ্ড বন্ধ করতে হবে এবং অপরাধীদের সাজা দিতে হবে।

৬. ভারতকে বাংলাদেশ বিরোধী সব কর্মকাণ্ড থামাতে হবে।

আমাদের মতো কিছু তরুণকে কেন যুদ্ধে নামতে হল?

ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ একের পর এক নিরীহ বাংলাদেশীকে হত্যা করে যাচ্ছে। এই রাষ্ট্র তার নাগরিক হত্যার প্রতিবাদ ঠিকমতো করতে পারছে না। নিজ নাগরিককে নগ্ন করে নির্যাতনের পরও যখন এই রাষ্ট্রযন্ত্র চুপ থাকে, দেশের প্রতি যাদের ভালোবাসা আছে, দেশের নিরীহ মানুষদের প্রতি যার ভালোবাসা আছে, সে কিভাবে চুপ থাকবে? সে কেন চুপ থাকবে? সে কি বিবেকহীন? সে কি আমাদের রাজনৈতিক নেতাদের মত চোখ বুজে থাকে? রাষ্ট্রযন্ত্র যখন এ সমস্যার সমাধান করতে পারেনি তখন আমাদের মতো একদল তরুণকেই এগিয়ে আসতে হয়েছে, আমরা কিভাবে প্রতিবাদ করতে পারতাম? এরকম সাইবার যুদ্ধ শুরু করা ছাড়া আমাদের আর উপায় কি?

আমরা কি স্বাধীনতাবিরোধী? আমরা কি অপরাধী?

আমরা বলতে চাই, দেশের নিরীহ মানুষগুলোর বুকে তাজা গুলি যারা সহ্য করতে পারেনি সেইসব তরুণরাই এ যুদ্ধের নেতৃত্ব দিচ্ছে। হাজার হাজার তরুণ এখন এ সাইবার যুদ্ধের সঙ্গে জড়িত। দেশের প্রতি ভালোবাসা থেকেই যুদ্ধে যুক্ত হচ্ছেন সাধারণ যোদ্ধারা। কোন রাজনৈতিক বা ধর্মীয় সংশ্লিষ্টতা নেই এ যুদ্ধে। অথচ দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী দিপু মনি আমাদের বলেন, স্বাধীনতা বিরোধী! উইকলি ব্লিজ পত্রিকায় প্রকাশিত এক সংবাদে দেখা যায়, তিনি সাইবার যোদ্ধাদের ‘স্বাধীনতাবিরোধী’ এবং ‘ইসলামী সন্ত্রাসী’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। দিপু মনি কি চিন্তা করেছেন যে তার এ কথায় কারা লাভবান হল? স্বাধীনতা বিরোধীরাই! তারা আজ বলতে পারবে, দেখ- আমাদের ছেলেরা কত ট্যালেন্ট! আমাদের কত ক্ষমতা!! আমরা বিশ্বকে দেখিয়ে দিচ্ছি!!!

আমাদের যুদ্ধে ইসলাম বা অন্যকোন ধর্ম নিয়ে আমাদের কোন ইস্যু নেই, তাহলে কেন আমাদের দেশের গুরুত্বপূর্ণ একজন মন্ত্রী এ প্রতিবাদকে ধর্মের সাথে মিশিয়ে ফেলছেন? খেয়াল করলেই দেখতে পাবেন, এই সীমান্তে হত্যা কিংবা নির্যাতনের প্রতিবাদে সবাই শামিল আছে। হিন্দু, মুসলিম, খ্রিস্টান কিংবা বৌদ্ধ। সব ধর্মের যোদ্ধারাই নীরবে আক্রমণ চালিয়ে যাচ্ছেন। একজন হিন্দু যোদ্ধা কিভাবে ‘ইসলামী সন্ত্রাসী’ হয়?
আমাদের সাফ কথা, আমাদের কোন রাজনৈতিক মতাদর্শ নেই। আমরা স্বাধীনতাবিরোধী কোনো কার্যকলাপ তো করছিই না বরং স্বাধীনতা ছিনিয়ে নেবার বিরুদ্ধেই আওয়াজ তুলছি।

আমরা পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে বলতে চাই, আর কত চোখ বুঁজে থাকবেন? শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কক্ষে বসে সাধারণ মানুষের কণ্ঠ আপনি কিভাবে শুনতে পাবেন? সামাজিক যোগাযোগ সাইটগুলোতে আসুন, সাধারণ মানুষের কণ্ঠস্বর শুনুন। আপনাকে অনুরোধ, আপনি যে মন্তব্য করেছেন তা নিয়ে ফেসবুক ব্যবহারকারীদের মন্তব্য একবার ঘেঁটে দেখবেন কি? তবেই বুঝতে পারবেন তরুণরা কি বলতে চায়। আর সর্বশেষ অনুরোধ, আপনি আপনার বক্তব্যের জন্য দু:খ প্রকাশ করুন, বক্তব্য তুলে নিন।

দেশের নামসর্বস্ব তথ্য-প্রযুক্তিবিদ মোস্তাফা জব্বার বলেছেন, আমরা নাকি দেশের তথ্যপ্রযুক্তি খাতকে ধ্বংস করার জন্য নেমেছি। তাঁকে বলতে চাই, দেশের তথ্যপ্রযুক্তি খাতকে কতটি বছর ধরে আপনারা পিছিয়ে রেখেছেন তা কি আমরা ভুলে গেছি? তরুণরা অনেক কিছুই বোঝে, অন্তত কোনটি ভালো কোনটি মন্দ সেটি বোঝার ক্ষমতা তাদের আছে। তারাও এটাও বোঝে যে কি কি বাঁধা তৈরি করে আপনারা 
দেশের তথ্যপ্রযুক্তির অগ্রযাত্রাকে ব্যাহত করেছেন। আপনি বিসিএসের প্রেসিডেন্ট যখন ছিলেন, তখন দেশে নামসর্বস্ব কিছু তথ্যপ্রযুক্তি মেলা করা ছাড়া আর কি করতে পেরেছেন? দেশের তথ্যপ্রযুক্তি ক্ষেত্রের কোন সমস্যাটি সমাধানে আপনি ভূমিকা রেখেছেন? বাণিজ্যিক উদ্দেশ্য ছাড়া আপনার কোন কর্মকণ্ডটি আছে বলতে পারবেন? তরুণরা এসব ভুলেনি, ভুলবে না।

তাঁর মতে, আমরা খুব ভয়ংকর রকমের অপরাধ করছি! আমরা তাঁকে বলতে চাই, সীমান্তে ‘নিরীহ’ মানুষ হত্যা করা কি অপরাধ নয়? গুলি করে পাখির মত কাঁটাতারে ঝুলিয়ে রাখাটা কি অপরাধ নয়? একজন মানুষকে উলঙ্গ করে পৈশাচিক উল্লাস করাটা কি অপরাধ নয়? আপনি আমাদের এমন একটা উপায় বলে দিন তো দেখি, যে উপায়ে আপনার ভারতের দাদাদের কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদ করতে পারি এবং সে উপায়টি হয় ‘ভালো’।

সাইবার যোদ্ধাদের আক্রমণের মধ্যে কিছু ভারত-প্রেমী জামাত-শিবির খুঁজে বের করেছেন। তারা দাবি করেছেন জামাত শিবির যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বানচাল করার জন্য ভারতের উপরে সাইবার আক্রমণ করেছে। আমরা বলতে চাই, আমরা পূর্ণ দেশপ্রেম থেকেই এ ধরণের যুদ্ধ শুরু করেছি, চালিয়ে যাচ্ছি। আমাদের সঙ্গে কোনো রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা নেই। আমরা যুদ্ধ করছি…
Source :

Tuesday, February 14, 2012

শত শত ওয়েবসাইটে হ্যাকারদের হানা

বাংলাদেশের কিছু ওয়েবসাইট সোমবার হ্যাকিংএর শিকার হবার পর আজ ভারতেও নতুন করে কয়েকশ‘ ওয়েবসাইট আজ হ্যাকারদের হাতে আক্রান্ত হয়েছে৻
কোলকাতা থেকে বিবিসির সংবাদদাতা অমিতাভ ভট্টশালী জানাচ্ছেন, আক্রান্ত ওয়েবসাইটগুলোর মধ্যে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের ওয়েবসাইটসহ সরকারি বেশ কিছু ওয়েবসাইট রয়েছে৻
তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাংলাদেশী ও ভারতীয় হ্যাকারদের মধ্যে তাদের ভাষায় ‘একটি অঘোষিত সাইবার যুদ্ধ‘ চলছে৻
বাংলাদেশ কম্পিউটার এমারজেন্সী রেসপন্স টিমের চেয়ারম্যান সুমন আহমেদ বিবিসিকে বলেন, মূলত ভারত এবং বাংলাদেশের কয়েকটি হ্যাকার গ্রুপের দ্বন্দ্বের প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশী হ্যাকাররা মহারাষ্ট্র পুলিশেও ওয়েবসাইট আক্রমণের মাধ্যমে ভারতীয় ওয়েবসাইট হ্যাক করা শুরু করে৻ 

ভারতীয় ওয়েবসাইটগুলো হ্যাক করার কৃতিত্ব দাবি করে ‘বাংলাদেশ সাইবার আর্মি ‘ নামে একটি কথিত হ্যাকার গ্রুপ আজ ইউটিউবে একটি ভিডিও প্রকাশ করেছে৻ এছাড়া সামাজিক যোগাযোগ ওয়েবসাইট ফেসবুকে তাদের একটি ‘ফ্যান পেজে‘ হ্যাক করা ওয়েবসাইটগুলোর একটি দীর্ঘ তালিকা দেয়া হয়েছে৻
ওই হ্যাকাররা দাবি করে যে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর গুলিবর্ষণে বাংলাদেশী বেসামরিক লোকদের নিহত হবার ঘটনাগুলোর প্রতিবাদ জানাতে এবং টিপাইমুখ বাঁধ নির্মাণ বন্ধের দাবিতেই তারা এ কাজ করেছে৻
এর একদিন আগে বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার কর্মকর্তারা জানান, বিদেশী হ্যাকাররা কিছু বাংলাদেশী সরকারি ওয়েবসাইট হ্যাক করে৻
তবে সাইটগুলো কয়েক ঘন্টা পরই আবার চালু করা সম্ভব হয় বলে বাংলাদেশ সরকারের তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক পরামর্শক এ আর হাজিমুল হক৻
কারা এই সাইবার আক্রমণ চালিয়েছে তা বাংলাদেশী কর্মকর্তারা সুনির্দিষ্টভাবে বলেন নি৻
তবে বাংলাদেশী সংবাদ মাধ্যমের রিপোর্টকে উদ্ধৃত করে ঢাকা থেকে বিবিসির সংবাদদাতা জানিয়েছেন যে, ‘ইন্ডিয়ান সাইবার আর্মি ‘ নামে পরিচিত ভারতীয় হ্যাকারদের একটি গোষ্ঠী এই আক্রমণের জন্য দায়ী হতে পারে৻

সুমন আহমেদ বলেন, আক্রান্ত ওয়েবসাইটগুলো পরীক্ষা করেই বোঝা যায় যে তারা কোন দেশের, তা ছাড়া অনেকক্ষেত্রে তারা নিজেদের পরিচয় জানিয়ই হ্যাক করে৻ অনেক ওয়েবসাইটেই সুরক্ষামূলক ব্যবস্থা না থাকায় সহজেই তারা হ্যাকারদের শিকার হয়৻
বিভিন্ন সুত্রে পাওয়া খবরে জানা যায় যে বেশ কিছু দিন ধরেই ভারত ও বাংলাদেশের শত শত ওয়েবসাইট হ্যাকারদের আক্রমণের শিকার হচ্ছে৻

সম্প্রতি কথিত বাংলাদেশী হ্যাকারদের হাতে আক্রান্ত হয় বেশকিছু ভারতীয় ওয়েবসাইট৻ এরই পাল্টা জবাব হিসেবে বাংলাদেশের সরকারী ওয়েবসাইটে হ্যাকিংএর ঘটনা ঘটানো হয়ে থাকতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা বলছেন৻
কথিত বাংলাদেশী হ্যাকার গোষ্ঠী আরও দাবী করছে যে ভারতীয় হ্যাকাররাই এই কথিত সাইবার যুদ্ধ শুরু করেছে এবং তারাই প্রথমে বাংলাদেশের কয়েকটি ওয়েবসাইট হ্যাক করেছিল৻

ভারতের তরফ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এই তথাকথিত সাইবার যুদ্ধ সম্বন্ধে এখনও কিছু বলা হয় নি৻

তবে আরিফ আহমেদ নামে ভারতের একজন সাইবার সুরক্ষা বিশেষজ্ঞ বলছেন, বেশীরভাগ ওয়েবসাইট-ই ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের আর সেগুলিতে অতি স্পর্শকাতর কোনও তথ্য থাকারও কথা নয়৻ 

প্রচার করাই এই কথিত যুদ্ধের মূল উদ্দেশ্য বলে মনে করছেন সাইবার সুরক্ষা বিশেষজ্ঞরা৻

Sunday, February 12, 2012

বাংলাদেশ-ভারত সাইবার যুদ্ধ!

'সাইবার যুদ্ধে' নেমেছে বাংলাদেশ ও ভারতের হ্যাকাররা। গত বৃহস্পতিবার রাত থেকে দুই দেশের ওয়েবসাইটগুলোতে পাল্টাপাল্টি আক্রমণ চলছে। ইতিমধ্যেই দুই দেশের কয়েকটি মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটসহ সহস্রাধিক সাইট হ্যাক্ড হয়েছে। প্রতিপক্ষের ওয়েবসাইটের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সেখানে লিখে দেওয়া হচ্ছে নিজেদের স্লোগান।
ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্সের (বিএসএফ) হাতে নিরীহ বাংলাদেশি হত্যার প্রতিবাদে 'বাংলাদেশ ব্ল্যাক হ্যাট হ্যাকারস' (বিবিএইচএইচ) গ্রুপ গত বৃহস্পতিবার নতুন করে ভারতের বিরুদ্ধে সাইবার যুদ্ধ ঘোষণা করে। এরপর ভারতীয় হ্যাকার গ্রুপগুলোও বাংলাদেশি সাইবার স্পেস ধ্বংস করে দেওয়া হবে বলে ঘোষণা দিয়ে পাল্টা হামলা চালায়।
  ইতিমধ্যে ভারতীয় হ্যাকার গ্রুপের আক্রমণে পড়েছে বাংলাদেশ সরকারের ছোট-বড় অর্ধশত ওয়েবসাইট। পাশাপাশি ৩০০ থেকে ৪০০ বেসরকারি এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইটও ইতিমধ্যে আক্রমণের শিকার হয়েছে। অপরদিকে বাংলাদেশি হ্যাকারদের কবলে রয়েছে শতাধিক ভারতীয় ওয়েবসাইট। এর মধ্যে সরকারি এবং বড় বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইটও রয়েছে। বৃহস্পতিবার শুরু করেছিল বাংলাদেশ। এরপর ওই দিন রাতের প্রথম আক্রমণেই বাংলাদেশ পুলিশের ওয়েবসাইট থেকে অনেক তথ্য অনলাইনে প্রকাশ করে দেয় ভারতীয় হ্যাকাররা। প্রকাশিত একটি ডকুমেন্টে দেখা যায়, পুলিশের ওয়েবসাইটের গুরুত্বপূর্ণ ইউজারনেম ও পাসওয়ার্ড রয়েছে সেখানে। গত শুক্রবার বাংলাদেশের পাঁচটি মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট ভারতীয় হ্যাকাররা নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নেয়। এগুলো হলো যোগাযোগ, টেলিযোগাযোগ, যুব ও ক্রীড়া, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়। আক্রান্ত হয়েছে ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) ওয়েবসাইটও। গত শনিবার রাত ৯টার দিকে চারটি মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে গিয়ে কালো স্ক্রিনে লেখা দেখা যায়, 'হ্যাক্ড বাই লাভ দ্য রিস্ক, অমল লন্ধে, এলএনএঙ্ রুট, সাইলেন্ট কিলার।' একইভাবে হ্যাকিংয়ের শিকার হয়েছে রাজশাহীর পুলিশ কমিশনারের ওয়েবসাইট, ফায়ার সার্ভিসের ওয়েবসাইট, বরিশাল জেলা প্রশাসনের ওয়েবসাইট। ভারতীয় হ্যাকারদের কবলে বাংলাদেশের অর্ধশতাধিক সরকারি ওয়েবসাইট হ্যাক্ড হয়েছে বলে জানা গেছে।
তবে হ্যাকিং সংবাদ পোর্টাল সিকিউরিটি রে বলছে, ভারতীয় হ্যাকাররা শতাধিক ওয়েবসাইট হ্যাক করেছে, আর বাংলাদেশি হ্যাকাররা দাবি করেছে তারা পাঁচ শতাধিক ওয়েবসাইট আক্রমণে সক্ষম হয়েছে। অবশ্য দুই দেশেই হ্যাক্ড হওয়া সাইটগুলোর বেশির ভাগ সংশ্লিষ্ট সাইট কর্তৃপক্ষ পুনরুদ্ধার করে ফেলেছে।

গত শনিবার ওয়েবসাইট হ্যাক্ড হওয়ার বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ কালের কণ্ঠকে বলেন, 'বিষয়টি জানতে পেরেছি, ওয়েবসাইট পুনরায় সচল করার ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।'

বিবিএইচএইচের ঘোষণার পর আরো কয়েকটি বাংলাদেশি হ্যাকার গ্রুপ তাদের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে ভারতীয় ওয়েবসাইটগুলোতে আক্রমণ শুরু করে। ইতিমধ্যে 'এঙ্পায়ার সাইবার আর্মি' এবং 'বাংলাদেশ সাইবার আর্মি' গ্রুপের নাম পাওয়া গেছে। ওদিকে ভারতীয় হ্যাকারদের নেতৃত্ব দিচ্ছে 'ইন্ডিশেল' নামের একটি গ্রুপ। বাংলাদেশ এবং ভারতীয় হ্যাকারদের মধ্যে কথোপকথনের একটি ডকুমেন্ট কালের কণ্ঠের হাতে এসেছে। সে ডকুমেন্ট থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

এদিকে গতকাল রবিবার দুপুরে বাংলাদেশ ব্লাকহ্যাট হ্যাকারস গ্রুপের সদস্যরা ভারতের একটি বড় মাপের সার্ভার হ্যাক করেছে, যেখানে দেড় হাজারেরও বেশি ভারতীয় ওয়েবসাইট হোস্ট করা ছিল। একাধিক সূত্রে জানা গেছে, আজ সোমবার রাতে জোরালোভাবে পাল্টা আক্রমণের পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে ভারতীয় হ্যাকার গ্রুপগুলোও। সূত্র মতে, তাদের প্রধান টার্গেট বাংলাদেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের সার্ভার আক্রমণ। এটি করা সম্ভব হলে সার্ভারে থাকা কয়েক হাজার বাংলাদেশি ওয়েবসাইট ভারতীয় হ্যাকারদের নিয়ন্ত্রণে চলে যাবে। একই সঙ্গে ডটকম ডটবিডি ডোমেইনগুলোর নিয়ন্ত্রণও পেয়ে যাবে তারা। তবে ভারতীয় হ্যাকারদের সব আক্রমণ প্রতিহত করা হবে বলে জানিয়েছেন 'বাংলাদেশ সাইবার আর্মি' সঞ্চালকরা।

সাইটের নিরাপত্তা বৃদ্ধির পরামর্শ : ইন্টারনেট নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ এবং সেন্টার ফর টেকনোলজি ডেভেলপমেন্টের প্রধান কারিগরি কর্মকর্তা জাবেদ মোর্শেদ জানান, 'এখন আমাদের ইমেডিয়েট কাজ হবে সরকারি গুরুত্বপূর্ণ সাইটগুলো যে ওয়েব সার্ভারে আছে তার নিরাপত্তার দিকগুলো খতিয়ে দেখা। যত দ্রুত সম্ভব ওয়েব সার্ভারের লেটেস্ট ভার্সনে আপগ্রেড করত হবে। এ ছাড়া সার্ভারের কোনো সিকিউরিটি প্যাঁচ থাকলে তা আপডেট করা, অ্যাডমিন ও সি প্যানেলের পাসওয়ার্ড পরিবর্তন এবং প্রয়োজনে শক্তিশালী করাটাও বেশ জরুরি।'

তথ্যপ্রযুক্তিবিদ মোস্তফা জব্বার কালের কণ্ঠকে বলেন, সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে যারা ওয়েবসাইটগুলো তৈরি করছেন, তাঁরা যথাযথভাবে ওয়েবসাইটের নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলেই হ্যাকারদের দ্বারা আক্রান্ত হচ্ছেন। ওয়েব নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠানের দুর্বলতা, নিয়ন্ত্রণে অবহেলার কারণেই এমনটি হচ্ছে। মোস্তফা জব্বার বলেন, হ্যাকাররা রাষ্ট্রের ভয়াবহ ক্ষতি করছে, তারা যেকোনো দেশেরই হোক না কেন, তাদের আইনের আওতায় আনা উচিত। তথ্যপ্রযুক্তি খাতকে ধ্বংসের জন্য যেন ওরা মাঠে নেমেছে।

বিএসএফের হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদ : 'বাংলাদেশ ব্ল্যাকহ্যাট হ্যাকার' গ্রুপ ভিডিও শেয়ারিং সাইট ইউটিউবে বিএসএফ প্রধানের উদ্দেশে একটি ভিডিও বার্তাও প্রকাশ করেছে। বার্তায় বলা হয়, 'হ্যালো বাংলাদেশের নাগরিকরা, আমরা বাংলাদেশ ব্ল্যাকহ্যাট হ্যাকারস। এখন সময় আমাদের চোখ খুলবার। বিএসএফ এক হাজারেরও বেশি বাংলাদেশি নাগরিককে হত্যা করেছে। তাদের গুলিতে আহত হয়েছে আরো ৯৮৭ বাংলাদেশি। অপহৃত হয়েছে হাজারো মানুষ। এটি মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ। তারা অবিচার করছে। সংকটময় এ মুহূর্তে বাংলাদেশি নাগরিক হিসেবে আমাদের কিছু দায়িত্ববোধ রয়েছে, আমরা চাই ভারত সরকার নিরপরাধ বাংলাদেশিদের হত্যা করা বন্ধ করুক। নতুবা আমরা ভারতীয়দের বিরুদ্ধে সাইবার যুদ্ধ শুরু করব। এটি চলতেই থাকবে।'

এদিকে হ্যাকিং সংবাদ পোর্টাল সিকিউরিটি রে সূত্রে জানা গেছে ইন্ডিশেল হ্যাকার গ্রুপের পাল্টা পরিকল্পনার কথা। এ গ্রুপের এফএফই এসএসএঙ্টি প্রিন্স ফেসবুক স্ট্যাটাসে বলেন, 'পাকিস্তানে অপারেশনের পর আমরা এখন চিন্তা করছি বাংলাদেশের বিরুদ্ধে অপারেশন শুরু করব। বাংলাদেশি হ্যাকার গ্রুপ বিবিএইচএইচের কিছু হ্যাকারের আচরণের কারণে আমাদের এ সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে। ইন্ডিশেল হ্যাকার দল এখন দেখাবে হ্যাকিং কাকে বলে!'

প্রায় মাসখানেক ধরেই দুই দেশের সাইবার আর্মি গ্রুপগুলোর মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছিল। মূলত সীমান্ত হত্যার প্রতিবাদে বাংলাদেশি হ্যাকাররা ভারতীয় ওয়েবসাইটগুলো আক্রমণ শুরু করলে ভারতীয় হ্যাকাররাও এ ব্যাপারে সোচ্চার হয়ে ওঠে।
  গত মাসে বাংলাদেশি হ্যাকার গ্রুপ বিবিএইচএইচ প্রথম আলোচনায় আসে অর্ধশতাধিক ভারতীয় ওয়েবসাইট হ্যাক করে। এর মধ্যে ভারত সরকারের একটি গুরুত্বপূর্ণ ওয়েবসাইটও ছিল। গত ২৫ থেকে ২৮ জানুয়ারির মধ্যে ব্ল্যাকহ্যাট হ্যাকারের সদস্যরা এগুলো হ্যাক করে। অধিকাংশ সাইটের হোমপেইজ পরিবর্তন করে সেখানে লেখা হয়েছে, 'ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) কর্তৃক বাংলাদেশি হত্যার প্রতিবাদে সাইটগুলো হ্যাক করা হলো।' কয়েকটি সাইটে বিএসএফের হত্যাকাণ্ডের শিকার কিশোরী ফেলানীর ঝুলন্ত লাশের ছবিও যুক্ত করে দেওয়া হয়।
হ্যাকিংয়ের পর ভারতের মহারাষ্ট্রের হাইওয়ে পুলিশের ওয়েবসাইটে 'অ্যাবাউট আস' পেইজে লেখা হয়, 'সীমান্তরক্ষী বাহিনী কর্তৃক ১৫ বছরের কিশোরী ফেলানী হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এটি আমরা কখনো ভুলব না, কখনো ক্ষমা করব না এবং তাদেরকে ছেড়ে দেব না। সীমান্তে হত্যাকাণ্ড বন্ধ করো, অথবা আমরা তোমাদের সাইবার স্পেস ধ্বংস করে দেব। কোথায় তোমাদের মানবিকতা, কোথায়? এটি বিএসএফের জন্য খুব লজ্জাজনক।' এ হ্যাকিং ঘটনার পরের সপ্তাহেই বিএসএফের ওয়েবসাইট হ্যাকিংয়ের কবলে পড়ে। বাংলাদেশি হ্যাকাররা ডিস্ট্রিবিউটেড ডেনিয়েল সার্ভিস (ডিডস) আক্রমণ করে বিএসএফের ওয়েবসাইট অফলাইন করে ফেলে। এরপর টানা ছয় ঘণ্টা ওয়েবসাইটটি ভিজিট করতে পারেননি কেউ। ভিজিটরদের ওয়েবসাইটের কনটেন্ট না দেখিয়ে সোর্সকোর্ড দেখাচ্ছিল ব্রাউজার।

এবার 'অপারেশন ইন্ডিয়া, ফেজ-২' : সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়েই যেন বাড়ছে লড়াইয়ের তীব্রতা। বাংলাদেশে সামাজিক যোগাযোগ সাইট ফেসবুকে হ্যাকারদের স্বাগত জানাচ্ছেন অনেকে, অংশ নিতে চাইছেন ভারতের বিরুদ্ধে এই সাইবার যুদ্ধে।
  আর এ কারণে 'অপারেশন ইন্ডিয়া, ফেজ-২' নামে নতুন সাইবার আক্রমণ পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে বাংলাদেশি হ্যাকাররা।
ভারতীয় হ্যাকার কর্তৃক বাংলাদেশি ওয়েবসাইটগুলোতে আক্রমণ শুরু হওয়ায় আতঙ্কে আছেন অনেক বাংলাদেশি ওয়েব মাস্টার। কম নিরাপত্তাবিশিষ্ট ওয়েবসাইটগুলো সহজেই ভারতীয় হ্যাকারদের আক্রমণে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বাংলাদেশি ওয়েব মাস্টারদের ওয়েবসাইটের ব্যাক-আপ রাখা এবং নিরাপত্তা বাড়ানোর পরামর্শ দিয়েছেন নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা।

গত বৃহস্পতিবার থেকে এই সাইবারযুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে যত সময় যাচ্ছে ততই বাড়ছে সাইবার আক্রমণ। বাংলাদেশি হ্যাকাররা বলছে, 'যতক্ষণ সীমান্ত হত্যাকাণ্ড না থামবে ততক্ষণ থামবে না আমাদের সাইবার যুদ্ধ।' এদিকে ভারতীয় হ্যাকার গ্রুপ ইন্ডিশেলের বরাত দিয়ে সিকিউরিটি রে জানিয়েছে, বাংলাদেশি হ্যাকারদের আক্রমণ না থামলে তারাও তাদের আক্রমণ থামাবে না।'

এদিকে দুই দেশের এ 'সাইবার ওয়্যার' বেশ গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছে আন্তর্জাতিক হ্যাকার কমিউনিটিগুলো। 'ব্ল্যাকহ্যাট হ্যাকার' গ্রুপের একজন মডারেটর নাম প্রকাশ না করার অনুরোধ জানিয়ে কালের কণ্ঠকে বলেন, 'আন্তর্জাতিক হ্যাকার গ্রুপ জেডএইচসি এবং দ্য হ্যাকার আর্মি ইতিমধ্যে আমাদের সঙ্গে যোগ দিয়েছে। তা ছাড়া বাংলাদেশি হ্যাকাররাও বেশ দক্ষ। ভারত তাদের সীমান্ত হত্যাকাণ্ড না থামালে আমরা পুরো ভারতের সাইবার স্পেসকে হেল বানিয়ে দেব।'

বিশ্বের সবচেয়ে বড় এবং আলোচিত হ্যাকার গ্রুপ অ্যানোনিমাসও বাংলাদেশি হ্যাকার গ্রুপগুলোর সঙ্গে কাজ করবে বলে স্থানীয় হ্যাকাররা দাবি করছে। তবে অ্যানোনিমাস অফিসিয়ালি কোনো ভিডিও প্রকাশ করেনি বা তথ্য দেয়নি। এ ব্যাপারে বাংলাদেশি হ্যাকার গ্রুপের একজন মডারেটর জানান, 'অ্যানোনিমাসের শীর্ষস্থানীয়দের থেকে ইতিমধ্যে আমরা সম্মতি পেয়েছি।'
  Source :

Saturday, February 11, 2012

অপসংস্কৃতি প্রদর্শন,বিপিএল কর্তৃপক্ষকে ক্ষমা চাইতে হবে

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অপসংস্কৃতি প্রদর্শনের ঘটনায় বিপিএল কর্তৃপক্ষকে জাতির কাছে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট। ১৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে ক্ষমা না চাইলে কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা দেওয়ার কথাও বলেছে জোটটি।

আজ শনিবার বিকেলে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে আয়োজিত প্রতিবাদ সমাবেশে এই কর্মসূচি ঘোষণা করেন সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সহসভাপতি গোলাম কুদ্দুছ। প্রতিবাদ সমাবেশের সভাপতি হিসেবে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের ক্রিকেটের অগ্রগতি হোক তা আমরাও চাই। কিন্তু ক্রিকেটের নাম ভাঙিয়ে ফায়দা লোটা হচ্ছে আজ। বিপিএলের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যে অপসংস্কৃতি প্রদর্শন করা হয়েছে, তা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। অনুষ্ঠানে একুশ ও বাংলা ভাষাকেও অপমান করা হয়েছে। কাজেই বিপিএল কর্তৃপক্ষকে ক্ষমা চাইতেই হবে। অন্যথায় কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে।’

সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সাধারণ সম্পাদক হাসান আরিফ বলেন, দেশের মূল্যবোধ আজ ভূলুণ্ঠিত। একটি চ্যানেল উদ্বোধনীতেই যেভাবে অপসংস্কৃতি প্রদর্শন করল, তারপর এটাই বলতে হবে যাকে-তাকে চ্যানেল দেওয়া ঠিক নয়।

উদীচীর সাধারণ সম্পাদক হাবিবুল আলম বলেন, বাঙালি সংস্কৃতি সুন্দর ও শালীন। বিপিএল তাতে আঘাত হেনেছে। যারা এই আঘাত করেছে, তাদের গ্রেপ্তার করে বিচার করতে হবে।

আবৃত্তি সমন্বয় পরিষদের সাধারণ সম্পাদক আহকামউল্লাহ বলেন, ‘উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যা হয়েছে, তাতে লজ্জায় আমাদের মাথা হেঁট হয়ে গেছে। কেবল প্রতিবাদই নয়, এ ধরনের অপসংস্কৃতি আমাদের প্রতিরোধ করতে হবে।’

বাংলাদেশ পথনাটক পরিষদের সভাপতি নাট্যকার মান্নান হীরা বলেন, যে অপসংস্কৃতি প্রদর্শন করা হয়েছে, সেটি ফড়িয়া ও ফাটকাবাজদের সংস্কৃতি। মুনাফার জন্য তারা এটি করেছে। এ দেশে যুদ্ধাপরাধের বিচার যেমন জরুরি, তেমনি সংস্কৃতি হত্যাকারীদেরও বিচার করতে হবে।

বাংলাদেশে গণশিল্পী সমন্বয় পরিষদের সভাপতি ফকির আলমগীর বলেন, রাজনৈতিক ও রুটির সংগ্রামের চেয়ে রুচির সংগ্রাম কোনো অংশেই কম গুরুত্বপূর্ণ নয়। তাই এ ধরনের অপসংস্কৃতির বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।

Tuesday, January 31, 2012

কামাল মজুমদারের যৌন লিপ্সা এবং সাংবাদিক নির্যাতনের আরও অজানা কাহিনী।

অতি সম্প্রতি মিরপুরের এমপি কামাল মজুমদারের সাংবাদিক নির্যাতনের সংবাদ গণমাধ্যমে প্রকাশ হওয়ায় অনেকে জানতে পারছেন লোকটি কেমন নিকৃষ্ট। কিন্তু কেউ কি ভাবতে পারছেন তার নিজের একটি টেলিভিশন আছে সেখানকার সাংবাদিকরা কেমন আছে। কেউ কি সে খবর রাখেন! আপনারা কেউ ভাবতেও পারবেন না- কি অমানুষিক মানসিক নির্যাতন সে তার মোহনা টিভির সাংবাদিকদের দিয়ে এসেছে এবং আসছে। মোহনায় প্রায় প্রথম থেকে কাজ করেছেন এমন একজন নিউজ এডিটর এবং কয়েকজন সংবাদ কর্মীর কাছ থেকে শুনলাম সেসব কাহিনী।

বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর কামাল মজুমদার এই টিভির লাইসেন্স পান। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নাকি তাকে ছোট ভাইয়ের মত দেখেন- কামাল মজুমদারের নিজের দাবি, যদিও বয়সে সে শেখ হাসিনার বড় হবে। সন্ত্রাসী কামাল মজুমদারের দাবি, "নেত্রী আমারে একদিন কইলো, এই কামাল তুই একটা টিভি নে।অনেক মিডিয়া আছে কিন্তু আমার নিজের মিডিয়া নাই। সেখানেই আমি সাদা কাগজে আবেদন করলাম। পেয়ে গেলাম টিভি। এটা আমার না শেখ হাসিনার টিভি।"

লাইসেন্স পাওয়ার পর কামাল মজুমদার যুদ্ধপরাধী সালাউদ্দিন কাদেরে সঙ্গে বৈঠক করেন এবং বন্ধ হয়ে যাওয়া সিএসবি টিভির অব্যহৃত মালামাল অল্প টাকায় কিনে নেন এবং নতুন লাইসেন্স পাওয়া টিভির কাতারে সবার আগে যাত্রা শুরু করেন।

প্রথমে রবীন সিদ্দিকী নামের এক লোক তার এখানে কাজ শুরু করেন, পরে তাকে এক রকম হুমিক দিয়ে বের করে দেন কামাল মজুমদার। তার অনেক টাকাও মেরে দেন কামাল মজুমদার। কথা ছিল তাকে ডিরেক্টর করবেন কিন্তু দেননি। বাইরের কয়েকজন ডিরেক্টর নিয়োগ দিয়ে তাদের টাকা নিয়ে তাদেরকেও একে একে বের করে দেন। এখন তাদেরকে টিভি ভবনে প্রবেশ করতে দেন না এবং টাকা চাইলে জানে মেরে ফেলার হুমকি দেন। ওরা অপেক্ষা করছে সুদিনের, কামালের পেছনে আবারো ডিম ডুকানোর কর্মসূচির দিনের অপেক্ষায়।

কামাল মজুমদারের এক জামাতা সামরিক বাহিনীর কর্মকর্তা। সে হুমকি সাংবাদিক এবং ওইসব ডিরেক্টরদের দিয়ে সে বলে আসছে যে, কেউ যদি তার অকর্মের কথা ফাঁস করে দেয় তাহলে তার বিরুদ্ধে অন্য রকম ব্যবস্থা নেওয়া হবে। যদিও তার মেয়ের জামাতাকে কখনো ওই টিভির আশে পাশে দেখা যায়নি।

সাংবাদিক হিসেবে এক সময় ইত্তেফাকে কাজ করতেন আকরাম হোসেন। তাকে কামাল মজুমদার মোহনার সংবাদ বিভাগের প্রধান হিসেবে নিয়োগ দেন। তার সঙ্গে নিয়োগ পান সাদ বিন রাবী নামের আরেকজন সাংবাদিক, বর্তমানে আছেন ইসলামী টিভিতে। কামাল মজুমদার তাদের দুজনকে অনেক অনেক অপমান করে বিদায় করেন। শোনা যায়, সাদ বিন রাবীকে সে জুতা দিয়ে পেটান। বেচারা ইজ্জতের ভয়ে কাউকে সে অভিযোগ করতে পারেননি। আমিরুল ফয়সাল নামের আরেকজন সাংবাদিককেও সে পিটিয়ে বের করে দেন।

এরপর সেখানে সংবাদ বিভাগের প্রধান হিসেবে নিয়োগ পান মারুফ উদ-দৌলা নামের একজন সাংবাদিক, সঙ্গে দেলোয়ার হোসেন নামের আরেকজন। কামাল মজুমদার এদের মধ্যে মারুফকে অনেক অপমান করে বের করে দেন এবং তার পাওয়া টাকাও বুঝে দেন নি। এরপর সেখানে নিযোগ পান সেলিম খান এবং মুন্নী সাহার ভাই প্রনব সাহা। শোনা যাচ্ছে মুন্নী সাহার ভাই কামাল মজুমদারের বর্তমান প্রধান পরামর্শ দাতা।সংবাদের সঙ্গে এই লোকের কোনও সম্পর্ক না থাকলেও মুন্নীর দোহাইতে সে ছড়ি গোরাচ্ছে মোহনায়। তাকে বের করে দেওয়ার চাপ আসলে যারা তাকে বের করে দিতে চেয়েছে তাদেরকে উল্টা অন্যায়ভাবে বের করে দেয় কামাল মজুমদার--অনেক অপমান করে। কামাল মজুমদার অনেক সময় তার সাংবাদিকদের বলেন এটিএন বাংলার মুন্নী সাহা নাকি তার কেনা। প্রমাণ হিসেবে মোহনায় টানানো একটি ছবি দেখান-- যেখানে মুন্নীসাহাকে দেখা যাচ্ছে সন্ত্রাসী কামাল মজুমদারের কোনও এক অনুষ্ঠানে চামাচামী করতে।

অন্যদিকে মোহনা টিভির অনুষ্ঠান এবং প্রশাসন বিভাগেও একের পর বিশিশ্ট ব্যাক্তিরা কাজ করেছেন।অপমান নিয়ে বিদায় হয়েছেন। প্রথমে বিখ্যাত পরিচালক সৈয়দ সালাউদ্দিন জাকী তার সিইও হিসেবে যোগ দিয়েছিলেন। কিন্তু তাকে চরিত্র হরণ করে কামাল মজুমদার বিদায় করে দেন। সিইও হিসেবে এরপর আলী ইমাম যোগ দেন কয়েক মাস পর তাকেও অপমান করে বিদায় করে দেন কামাল মজুমদার, এমনকি দারোয়ানকে নির্দেশ দেন যাতে তিনি উপরে না যেতে পারেন। টিভি ব্যাক্তিত্ব আলী ইমাম অফিসে এসে এই পরিস্থিতির শিকার হয়ে না প্রবেশ করতে না পেরে চলে যান।তার প্রতিষ্ঠানে কয়েকদিনের জন্য সিইও হিসেবে কাজ করেন আরেক খ্যাতনাম সাংবাদিক আনিস আলমগীর। কিন্তু পরিস্থিতি আর পরিবেশ অনুকুলে না থাকায় তিনিও চলে যেতে বাধ্য হন।

সেখানে অনুষ্ঠান প্রধান হিসেবে হাসিনা আহমেদ সোমা, আহমেদ শরীফ, আরমানসহ অনেক বিশিষ্ট ব্যাক্তি কাজ করেন-- কিন্তু সবাইকে কামাল মজুমদার অত্যন্ত অপমানের সঙ্গে বিদায় করেন। অনেককে তাদের পাওনা বেতনও নিতে পারেননি। অনেকে সম্মানিত লোককে অসন্মান করতে করতে কামাল মজুমদার এমন বিশ্বাস পেয়েছেন যে, তার মনে হয়েছে যে, সাংবাদিকদের যা ইচ্ছা করা যায়। সে কারণে আরটিভির ৩ সাংবাদিককে সে পেটানোর সাহস পেয়েছে। অপর্ণা সিংহের মতো একজন নারী সাংবাদিকের গায়ে হাত দিয়েছে তার হাত মচকিয়ে দেয়েছে, টিভি মাইক্রোফোন ফেলে দিয়েছে। সে একবারও ভাবেনি, যাদের সে তার টিভিতে এনে অপমান করেছে তারা দ্বিতীয়বার অপমান না হতেই তার বিরুদ্ধে কোনও অভিযোগ করেনি প্রকাশ্যে। তাদের সবার মান সন্মান কামাল মজুমদারের মতো একজন সন্ত্রাসী, ছোট লোকের ছেলের চেয়ে বেশী।

কামাল মজুমদাদের একটা কৌশল ছিল মানুষকে চরিত্র হরণ করা। কিন্তু জানা গেছে এই লম্পটটের হাতে অতীতে যেমন অনেক নারী ধর্ষিত হয়েছে, পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে- গারমেন্টস কর্মী থেকে অভিনেত্রীরা তার হাতে ইজ্জত বাচাতে পারেনি, তেমনি এখনও সে অনেক নারী সাংবাদিকের চরিত্র হরণ করেছে বা করতে চেয়েছে। তার কারণে অনেক সংবাদ পাঠিকা সেখানে কাজ বন্ধ করে দিয়েছে। সংবাদ পাঠিকাদের শিডিউল সংবাদ বিভাগের লোকদের দেখার কথা থাকলেও সে নিজেই তা দেখতো এবং এখনো দেখে। সে সুযোগ নিত। কুপ্রস্তাব দিতো। দেয়। সকাল ৯টা থেকে রাত ১২ টা পর্যন্ত সে টিভি ভবনে থাকে। যাকে যখন তার রুমে ডেকে নেয়।

অত্যন্ত লজ্জার বিষয় যে, একজন সংবাদ পাঠিকা তরুনীকে কব্জা করতে গিয়ে জুতার বাড়ি খেয়েছে কামাল মজুমদার। অপমানের শিকার হয়ে কামাল মজুমদার মামলা থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য তার বড় ছেলেকে বিয়ে দিয়ে সে সংবাদ পাঠিকাকে গত মে মাসে তার পত্র্রুবধু করে। তার ছেলে এই বিয়েতে রাজী না থাকলেও সে নিজেই প্রচার করে যে, ছেলে মেয়ে প্রেম করে বিয়ে করছে। আসলে ছেলে প্রেম করতো অন্যখানে- সে কারণে সে ড্রাগ নেওয়া শুরু করে। তার ওই গুণধর পুত্র দেশে এক লোককে হত্যা করে অনেক দিন বিদেশে পালিয়ে থাকলেও শেখ হাসিনা ক্ষমতায় এলে দেশে ফিরে আসে।

মনিপুর স্কুলের কাহিনী পুরোটাই সত্য। ওই স্কুলকে কামাল মজুমদার তার নিজের সম্পত্তি মনে করছেন। সেখানকার হেড মাস্টার তার চামচা এবং মোহনায় তৃতীয় শ্রেণীর একটি টক শো করে ফরহাদ নামের ওই ব্যক্তি। বিষয়টি আসলে পরসম্পরের পিট চুলকানি। চোরে চোরে সহযোগিতা। অবৈধভাবে টাকা ভাগাভাগি, ভর্তি বাণিজ্য। কামাল মজুমদার সর্বশেষ যে কথাটি বলে-- তার বিরুদ্ধে মণিপুর স্কুল নিয়ে একটা কুচক্রি মহল ষডযন্ত্র করছে। ওরা জামাতি- মণিপুর স্কুলের ৭০ ভাগ শিক্ষক জামাতি। নিজেকে রক্ষা করার জন্য এই হারামি জামাতকে দোষারোপ করে "জামাতি ষড়যন্ত্র" বিষয়টিকে ভোতা করে দিতে চাচ্ছে।

আজ জানলাম, কামাল মজুমদার-এর মার পিট বাইরে নয়, ঘরেও বিস্তর। সে তার বউকে প্যান্টের বেল্ট দিয়ে নিয়মিত পিটে। অকথ্য গালাগালি করে। তার এই আচরণ বনানীনে তার আশে-পাশের বাড়ির সবাই জানে। ইদানিং নাকি হাওয়া একটু উল্টে যাচ্ছে। তার বউ উল্টা তাকে পিটায়। সে কারণে প্রায় সারা দিন সে ঘরের বাইরে কাটায়--অন্যদের সঙ্গে ঘেউ ঘেউ, খেট খেট করে।

অজানা কাহিনীর শেষ নেই-------এসব সন্ত্রাসী, কুখ্যাতরা আর কতদিন জন সেবার নামে জনগণের ঘাড়ে উঠে থাকবেন আল্লাহ জানে!

[বি: দ্র: এই পোষ্ট নিয়ে কারো সন্দেহ হলে, কোনো গোয়েন্দার গোয়েন্দা গিরি করতে হলে সত্যতা জানার জন্য যাদেরকে কামাল মজুমদার অপমান করে বিদায় দিয়েছেন তাদের সাথে যোগাযোগ করতে পারেন। সোর্স থাকলে যারা এখনো কাজ করছে তাদের সঙ্গেও কথা বলতে পারেন কিন্তু আমি নিশ্চিত, প্রাণ ভয়ে তারা কেউ কথা বলতে নাও পারে।]