Tuesday, July 24, 2012

শাওনের বক্তব্য নিয়ে নিউ ইয়র্কে তোলপাড়

হুমায়ন আহমেদ তাকে নুহাশ পল্লীতে দাফনের কথা বলে গেছেন, মেহের আফরোজ শাওনের এমন বক্তব্যে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন তাদের ঘনিষ্ঠ নিউ ইয়র্ক প্রবাসী কয়েকজন বিশিষ্ট বাংলাদেশী।

জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ড. আব্দুল মোমেনের স্ত্রী সেলিনা মোমেন শাওনের বক্তব্যে বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, শনিবার হুমায়ন আহমেদের মরদেহ দেশে নিয়ে যাওয়ার প্রাক্কালে জেএফকে এয়ারপোর্টে প্রকাশ্যে মেহের আফরোজ শাওন লাশ দাফনের ব্যাপারে হুমায়ুন আহমেদ কিছু বলে যাননি বলে জানান।

সেলিনা মোমেন বলেন, শাওনকে এবিষয়ে প্রশ্ন করা হলে সেখানে আমি, হুমায়ুন আহমেদের চিকিৎসার সাথে সংশ্লিষ্ঠ মুক্তধারা নিউইয়র্কের প্রধান বিশ্বজিৎ সাহা, তার স্ত্রী রুমা সাহা এবং সাপ্তাহিক বাংলা পত্রিকার সাবেক চীফ রিপোর্টার ও ইটিিিভর নিউ ইয়র্ক প্রতিনিধি শাখাওয়াত হোসেন সেলিম উপস্থিত ছিলেন।

সবার সামনেই তাকে লাশ দাফনের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে শাওন বলেন, হুমায়ুন আহমেদ এবিষয়ে কিছুই বলে যাননি। এজন্য দেশে গিয়েই সিদ্ধান্ত হবে।

এবিষয়ে সাংবাদিক শাখাওয়াত হোসেন সেলিম বলেন, শাওন বললেন, হুমায়ুন আহমেদ কিছু বলে যাননি। তাই তিনি বলতে পারছেন না দাফন কোথায় হবে। তার এ্ই কথা রেকর্ড করতে গেলেই বাঁধা দেন শাওনের মা তহুরা আলী। তিনি বলেন, এখন কোন কথা রেকর্ড করা যাবে না। শাওনকে তিনি বারণ করেন এবিষয়ে কোন কথা না বলতে।

এবিষয়ে হুমায়ুন আহমেদের চিকিৎসার সাথে জড়িত প্রধান ব্যক্তি বিশ্বজিৎ সাহার বত্তব্য জানতে চাইলে তিনি বলেন, শাওনের বক্তব্য আমাকে বিস্মিত ও স্থম্ভিত করেছে। কারণ এয়ারপোর্টে তিনি প্রকাশ্যে বললেন, লাশ দাফনের বিষয়ে হুমায়ুন আহমেদ কিছুই বলে যাননি। কিন্তু দেশে গিয়েই তিনি একেবারেই উল্টো কথা বললেন।

গত ৯ মাস আমরা চিকিৎসার স্বার্থে কাছাকাছি ছিলাম। কিন্তু শাওন এধরনের কথা কখনো বলেনি। ড. হুমায়ুন আহমেদও আমাদের দাফন নিয়ে কোন নির্দেশনা দেননি।

বিশ্বজিৎ সাহার স্ত্রী রুমা সাহা বলেন, আমরা স্যারের মরদেহ ও শাওনকে বিদায় দিতে এয়ারপোর্ট গেলাম। সেখানে শাওন সবার সামনেই বলেছেন, স্যার দাফনের বিষয়ে কোন কিছু বলে যাননি। এখন তিনি একেবারেই অন্য কথা বলছেন। অবশ্য এ সময় তার মা তহুরা আলী এসে তাকে থামিয়ে দিয়ে নিয়ে যান বলে জানান। 

 

Saturday, May 19, 2012

জনতাকে লক্ষ্য করে এমপি গিয়াস উদ্দিনের গুলি

বিক্ষুব্ধ দলীয় সমর্থক ও এলাকাবাসী ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ের সাংসদের গাড়ি ভাংচুর করলে এমপি ক্যাপ্টেন (অব.) গিয়াস উদ্দিন তাদের লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণ করেন। তবে এতে কেউ হতাহত হয়নি। ঘটনাটি ঘটে গতকাল শুক্রবার উপজেলার উস্থি ইউনিয়নের কান্দিপাড়া বাজারে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, গতকাল সন্ধ্যা ৬টায় গফরগাঁও-টোক সড়ক দিয়ে আওয়ামী লীগ দলীয় এমপি গিয়াস উদ্দিন আহমেদ ঢাকা থেকে গফরগাঁও উপজেলা সদরে যাওয়ার পথে কান্দিপাড়া বাজারে গাড়ি থামিয়ে দলীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলছিলেন। এমপি কান্দিপাড়া এসেছেন_ এ খবর শুনে মুহূর্তে সেখানে উপস্থিত হয় শত শত দলীয় ও স্থানীয় লোকজন। তারা এমপিকে ঘেরাও করে। সদ্য ঘোষিত পাগলা থানার স্থান পরিবর্তনের দাবিতে স্লোগান দিতে থাকে তারা। এ অবস্থায় এমপি গাড়ির গল্গাস খুলে উপস্থিত লোকজনকে ধমকান এবং গালাগাল করেন। এতে লোকজন উত্তেজিত হয়ে এমপির গাড়ির পেছনের গ্গ্নাস ভাংচুর করে। তখন ক্ষুব্ধ এমপি গিয়াস উদ্দিন আহমেদ গাড়ির জানালা দিয়ে নিজস্ব পিস্তল থেকে বিক্ষোভকারীদের উদ্দেশে গুলি করেন। এতে লোকজন আরও উত্তেজিত হয়ে ফের এমপির গাড়ি ভাংচুর করে। এ অবস্থায় তিনি গাড়ি থেকে নেমে লোকজনকে লক্ষ্য করে আবারও গুলি করেন। পরে স্থানীয় মুরবি্বরা এগিয়ে এসে ঘটনা সামাল দেন। সেখান থেকে এমপি গিয়াস উদ্দিন উপজেলা সদরের সরকারি ডাকবাংলোতে অবস্থান নেন। অন্যদিকে এমপির গুলিবর্ষণের প্রতিবাদে তাৎক্ষণিক কান্দিপাড়া বাজারে দলীয় ও স্থানীয় লোকজন বিক্ষোভ মিছিল করে। এ সময় আতঙ্কে বাজারের ব্যবসায়ীরা তাদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত রাত সাড়ে ১২টায় কান্দিপাড়া বাজারে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন ছিল।

ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে উস্থি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক শফিউল বাশার মনি জানান, 'সদ্য ঘোষিত পাগলা থানার স্থান পরিবর্তনের দাবিতে পাঁচ ইউনিয়নের লোকজন আন্দোলন করছে। এমপি সাহেব এ আন্দোলনে কোনো কর্ণপাত না করায় এ বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটেছে।' অপরদিকে এমপি সমর্থিত লংগাইর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক লিয়াকত আলী মণ্ডল সমকালকে বলেন, 'সন্ত্রাসীরা এমপিকে হত্যা করার জন্য তার গাড়িতে হামলা ও ভাংচুর করে।' তিনি আরও বলেন, এ ঘটনার প্রতিবাদে রাত ৯টায় স্থানীয় বাজারে এক প্রতিবাদ সভা হয়। গফরগাঁও থানার ওসি (তদন্ত) মোঃ সাইফুল ইসলাম বলেন, এ ঘটনায় রাত সাড়ে ১২টা পর্যন্ত কোনো মামলা করা হয়নি। প্রত্যক্ষদর্শী যুবলীগ কর্মী সিদ্দিকুর রহমান রাসেল বলেন, 'এমপি সাহেব গাড়িতে বসে এবং গাড়ি থেকে নেমে দু'বার গুলি করেন।'

পরে এমপি গিয়াস উদ্দিন আহমেদ উপজেলা সদরের ডাকবাংলোয় অবস্থান নিয়ে তার দলীয় সমর্থকদের জড়ো করেন। রাত ৯টায় পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মতিউর রহমান বাবুলের নেতৃত্বে ২০-৩০টি মোটরসাইকেল বহর সশস্ত্র অবস্থায় কান্দিপাড়া বাজারে যায় এবং কান্দিপাড়া বাজার চৌরাস্তায় সংক্ষিপ্ত প্রতিবাদ সভা করে। এতে বক্তব্য দেন মতিউর রহমান বাবুল, লিয়াকত আলী মণ্ডল, মোফাজ্জল হোসেন সাগর, মাহতাব উদ্দিন সাদেক প্রমুখ। অন্যদিকে রাত সাড়ে ৯টায় সতরবাড়ি বাজারে এমপির সমর্থকরা লংগাইর ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি এম হককে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে। তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপেল্গক্সে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে তিন পথচারীকে আটক করে পুলিশ। আটককৃতরা হলো_ বকুল মিয়া, তানজিব ও কামরুল। এ বিষয়ে গিয়াস উদ্দিন আহমেদ গণমাধ্যমকে জানান, 'আমি ঢাকা থেকে গফরগাঁও যাওয়ার পথে কান্দিপাড়া বাজারে একটি পথসভা করি। পথসভা শেষে গফরগাঁও ফেরার পথে আমাকে হত্যার উদ্দেশ্যে দুষ্কৃতকারীরা হামলা চালায়। এ সময় আমি ফাঁকা গুলি করলে তারা পালিয়ে যায়।'

এলাকাবাসী জানান, এলাকার উন্নয়ন কাজের ঠিকাদারি, ভিজিএফ কার্ড বিতরণ, পরিবহনে চাঁদাবাজি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিয়োগসহ সবকিছু এমপির একক নিয়ন্ত্রণে। খোদ স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতারা এমপির বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময় নানা অভিযোগ তুলেছেন। ডাকবাংলো, রেলওয়ে এবং পানি উন্নয়ন বোর্ডের জমি দখলের অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। এসব নানা জনবিরোধী তৎপরতার কারণে এলাকার একটি বড় অংশ এমপির ওপর ক্ষুব্ধ। এলাকাবাসীর অভিযোগ, এমপি হওয়ার পর এলাকার জন্য তেমন কোনো উন্নয়ন কাজ করেননি গিয়াস উদ্দিন। এমপির বিরুদ্ধে কথা বললেই হামলা-মামলার শিকার হচ্ছেন সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে আওয়ামী লীগ-যুবলীগ নেতারাও। এমপি গিয়াসউদ্দিন অবশ্য দাবি করে আসছেন, তিনি দুর্নীতি-অনিয়মের সঙ্গে কখনোই জড়িত ছিলেন না। 

Tuesday, May 1, 2012

ইলিয়াসের স্ত্রীর প্রতি শ্রম প্রতিমন্ত্রী আপনার স্বামীর খুনি কে প্রধানমন্ত্রীকে খুলে বলুন (ভিডিও)

শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মন্নুজান সুফিয়ান বলেছেন, ‘ইলিয়াসের বিধবা স্ত্রী জানেন, তাঁর স্বামীর প্রকৃত খুনি কে।’ ‘আপনার স্বামীর খুনি কে’ তা প্রধানমন্ত্রীকে খুলে বলার জন্য ইলিয়াস আলীর স্ত্রীর প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি। আজ মঙ্গলবার সকালে ওসমানী মিলনায়তনে মে দিবসের অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপস্থিতিতে তিনি এ কথা বলেন। এ অনুষ্ঠানটি টিভি ও রেডিওতে সরাসরি সম্প্রচার করা হয়।

মন্নুজান বলেন, ‘ইলিয়াসের বিধবা স্ত্রী যখন টেলিভিশনে কথা বলেন, তখন মনে হয় তিনি অনেক কথা জানেন, কিন্তু বলতে পারছেন না।’ ইলিয়াসের স্ত্রীকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, ‘আপনি জানেন, আপনার স্বামীর খুনি কে, কারা তাঁকে অপহরণ করেছিল। শেখ হাসিনা বঙ্গবন্ধুর কন্যা, তিনি কোনো দিন এ কাজ করতে পারেন না। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আপনাকে ডেকেছেন, তাঁর কাছে সব খুলে বলুন। আশা করি, আপনার স্বামীর খুনিরা ধরা পড়বে।’

শ্রম প্রতিমন্ত্রীর এই বক্তব্যের সময় মিলনায়তনের ভেতরে প্রথম সারিতে বসে থাকা সরকারের মন্ত্রী, সাংসদ ও আওয়ামী লীগের নেতাদের মধ্যে গুঞ্জন ওঠে। বিষয়টি নিয়ে তাঁদের কানাকানি করতে দেখা যায়।

মন্নুজান সুফিয়ান আরও বলেন, নিজামী-মুজাহিদদের টাকা দিয়ে হরতাল করা হচ্ছে। প্রত্যেকটা নেতা-কর্মীর হাতে এক-দেড় হাজার টাকা ধরিয়ে দিয়ে মাঠে আনা হচ্ছে। তিনি হরতালের আগের দিন বাসে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় পুড়ে মারা যাওয়া চালক বদর বেগের হত্যার বিচার দাবি করেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় খালেদা জিয়া পাকিস্তানিদের মেহমান ছিলেন। তাই এখন তিনি দেশের উন্নয়ন চান না। সচিবালয়ে বোমা মারেন, গাড়ি পোড়ান।


Saturday, April 28, 2012

সেই হারুন এখন এসপি : বিরোধীদলীয় চিফ হুইপকে মারধর করায় পদোন্নতি!

পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের অতিরিক্ত উপকমিশনার মোহাম্মদ হারুন অর রশিদ ২০তম বিসিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের মধ্যে মেধাতালিকায় ৮৭তম অবস্থানে আছেন। ৪৩ জনকে ডিঙিয়ে তিনি পেয়েছেন মানিকগঞ্জ জেলার পুলিশ সুপারের চলতি দায়িত্ব। তাঁর পরের ব্যক্তি পুলিশের মতিঝিল বিভাগের অতিরিক্ত উপকমিশনার মনিরুজ্জামান। ৪৪ জনকে ডিঙিয়ে তাঁকে লক্ষ্মীপুর জেলার পুলিশ সুপারের চলতি দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।


অভিযোগ উঠেছে, এভাবে অনিয়ম ও দলীয়করণের মাধ্যমে ৩৬ জন কর্মকর্তাকে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার থেকে পুলিশ সুপারের চলতি দায়িত্বে পদায়ন করা হয়েছে। এসব কর্মকর্তার অনেকের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগও আছে। কেউ কেউ সাময়িক বরখাস্ত হন।


এখন চলতি দায়িত্বে নিয়োগ পাওয়া কর্মকর্তারা পরে পুলিশ সুপারের পদে স্থায়ী নিয়োগ পাবেন। এ কারণে এ ধরনের পদায়নকে পদোন্নতি হিসেবে ধরা হয়।


অভিযোগ আছে, হারুন অর রশিদ তেজগাঁও বিভাগের অতিরিক্ত উপকমিশনার থাকার সময় গত বছরের ৬ জুলাই সংসদে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ জয়নুল আবদিন ফারুককে মারধর করেছিলেন। এ ঘটনা ওই সময় গণমাধ্যমে ব্যাপক প্রচার পায়। ফারুককে মারধর করার ‘পুরস্কার’ হিসেবে ৪৩ জনকে ডিঙিয়ে হারুনকে এসপির পদ দেওয়া হয়েছে বলে পুলিশের মধ্যেই আলোচনা হচ্ছে।


পুলিশ সূত্র জানায়, বিরোধীদলীয় চিফ হুইপকে মারধরের ঘটনায় একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছিল। ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার আবদুল জলিল এ কমিটির প্রধান। কিন্তু এ ব্যাপারে কোনো তদন্তই হয়নি। এ বিষয়ে কেউ মন্তব্যও করতে চাননি।


হারুন অর রশীদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করে তাঁকে পাওয়া যায়নি। পুলিশের কর্মকর্তারা জানান, কিছুদিন আগে তিনি যুক্তরাষ্ট্র থেকে ফিরেছেন। তাঁর ফোন বন্ধ রয়েছে।


২২ এপ্রিল স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক আদেশে ৫৩ জন পুলিশ কর্মকর্তাকে বদলি ও নিয়োগের আদেশ দেয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এই তালিকায় ২০তম বিসিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ কর্মকর্তা আছেন ৩৬ জন। তাঁদের পদায়নের ক্ষেত্রে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। বলা হচ্ছে, দলীয় বিবেচনায় পছন্দের তালিকা ধরে পদায়ন করা হয়েছে।


পুলিশ সূত্র জানায়, এ নিয়ে এই ব্যাচের ১৭ জন কর্মকর্তা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করেছিলেন। তাঁরা হারুনসহ অনেকের পদোন্নতি নিয়ে আপত্তি তোলেন। পুলিশ কর্মকর্তারা স্বীকার করেন, অনিয়মের অভিযোগের কারণে পদোন্নতির তালিকাটি এক দফা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে ফেরত পাঠানো হয়। এরপর দীর্ঘদিন এটি ঝুলে ছিল। পরে কয়েকজন কর্মকর্তা মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীর বাড়ি বাড়ি ঘুরে নিজেদের পছন্দের নাম যুক্ত করেন।


পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) হাসান মাহমুদ খন্দকার প্রথম আলোকে বলেন, ‘পদোন্নতি ও বদলি নিয়ে সব সময় অভিযোগ ওঠে। এটা নতুন কিছু নয়। পদোন্নতির জন্য একটি কমিটি আছে, সেই কমিটিই সব ঠিক করে। এবার কিছু কর্মকর্তা বাদ পড়েছেন, আগামীতে তাঁরা পদোন্নতি পাবেন। এতে কোনো অনিয়ম হয়নি।’


নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পুলিশের এক কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, এবারের পদায়ন নিয়ে পুলিশ বিভাগে অসন্তোষ বিরাজ করছে। এর আগে এত অনিয়ম হয়নি। পদোন্নতি পাওয়া দুই কর্মকর্তা সম্প্রতি সরকারের ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত এক পুলিশ কর্মকর্তার কাছে যান। 

তাঁদের সঙ্গে পদোন্নতিবঞ্চিত এক কর্মকর্তাও ছিলেন। তাঁরা বলেন, ৩৬ জনকে পদায়ন করা হলেও মেধাতালিকায় চতুর্থ আনিছুর রহমান ও পঞ্চম বরকতুল্লাহ খানকে পদায়ন করা হয়নি। বরকতুল্লাহ বিগত সরকারের সময়ও বঞ্চিত ছিলেন। অভিযোগ শুনে ওই পদস্থ কর্মকর্তা নিজেও হতবাক হয়ে বলেন, বরকতুল্লাহর নাম তালিকায় ছিল। কিন্তু কেন শেষ মুহূর্তে তাঁকে বাদ দেওয়া হয়েছে, তা তিনি জানেন না।


ছাত্রলীগের সাবেক কেন্দ্রীয় নেতা সৈয়দ নুরুল ইসলাম মেধা তালিকায় ৬৫তম অবস্থানে আছেন। ৩৫ জনকে ডিঙিয়ে তাঁকে ঢাকা মহানগর পুলিশের উপকমিশনারের চলতি দায়িত্বে পদায়ন করা হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের আরেক নেতা মনিরুজ্জামানকে একইভাবে পদায়ন করা হয়েছে।


দিনাজপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোস্তাফিজুর রহমানের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা চলছে। তবু তাঁকে ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশের এসপির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। বিভাগীয় মামলা চলছে এ কে এম এহসান উল্লাহর বিরুদ্ধেও। তাঁকে হাইওয়ে পুলিশের (পশ্চিম) পুলিশ সুপার পদে (চলতি দায়িত্ব) পদায়ন করা হয়েছে।


যোগাযোগ করা হলে সাবেক আইজিপি এ এস এম শাহজাহান বলেন, পুলিশের নিয়োগ ও পদোন্নতি মেধার ভিত্তিতে করতে হবে। তা না হলে ভালো পুলিশ গড়ে উঠবে না। দলীয় পরিচয় পদোন্নতির মাপকাঠি হলে পুলিশের সংস্কার আর কোনো দিনই হবে না।

Sunday, April 22, 2012

তিন শর্তে ইলিয়াসের মুক্তি!

তিন শর্ত মানলে ইলিয়াস আলীকে ছেড়ে দেয়া হবে- এই খবরটি ছিল রাজনৈতিক মহলের উচ্চ পর্যায়ের সর্বত্র আলোচনার বিষয়। শর্ত তিনটি হলো: এক. সুরঞ্জিতের এপিএসের অর্থ কেলেঙ্কারির ঘটনাটি ড্রাইভার আলী আজমকে দিয়ে ঘটিয়েছেন ইলিয়াস আলী। দুই. বলতে হবে তার নিজের দলের লোকেরাই তাকে অপহরণ করেছে। তিন. তিনি আর রাজনীতিতে সক্রিয় হবেন না। এই খবর দিয়েছে বিএনপির একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র।

শনিবার গাজীপুরের পুবাইলে ইলিয়াসের সন্ধানে র্যাব-পুলিশের অভিযান চালায়। তারা একটি শ্যুটিং স্পটের বাড়িতে এই অভিযান পরিচালনা করে। সূত্র জানায়, এই সময় র্যাব-পুলিশের সঙ্গে ছিলেন ইলিয়াসের স্ত্রী তাহমিনা রুশদী। অভিযানশেষে ঢাকায় ফেরার পথে ইলিয়াসের স্ত্রীকে এই তিন শর্তের কথা বলা হয়।

তাহমিনা রুশদী ঢাকায় পৌঁছেই ছুটে যান খালেদা জিয়ার বাসায়। সেখানে তিনি কথা বলেন নেত্রীর সঙ্গে। সূত্র জানাচ্ছে, এই তিন শর্ত নিয়ে নেত্রীর সঙ্গে কথা বলেন তাহমিনা রুশদী। সূত্র দাবি করেছে, নেত্রী শর্ত মানার কথা বলে দিয়েছেন তাকে। নেত্রীর বক্তব্য হলো, আগে ইলিয়াস বেঁচে আসুক, পরে বাকিটা দেখা যাবে।

এরপর থেকেই তাহমিনা রুশদী আর কারো সাথে কথা বলছেন না। মিডিয়ার সামনেও আসছেন না। ওই সূত্র দাবি করেছে, তিনি র্যাবকে শর্ত মেনে নেয়ার কথা জানিয়ে দিয়েছেন। এখন তার একটাই প্রতীক্ষা স্বামী কখন ফিরে আসবে।

এই বিষয়ে র্যাবের একজন কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

এক ইস্যুতে উত্তপ্ত রাজনৈতিক অঙ্গন
তবে ইলিয়াস আলী ফিরে আসবেন কি আসবেন না, এই প্রশ্ন নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে দিনভর আলোচনা চলে। এতো পরিচিত একজন রাজনৈতিক নেতার এভাবে হারিয়ে যাওয়ার বিষয়টি নিয়ে গোটা দেশে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। বিষয়টিতে অনেকে এই গরমেও শিরদাঁড়ায় হিমশীতল আতঙ্ক অনুভব করছেন।

খবর বেরিয়েছে, বিএনপির নেতারা যাতে একা চলাফেরা না করেন সেই পরামর্শ দেয়া হয়েছে দলের পক্ষ থেকে। আরো বলা হয়েছে তারা যেন রাত ১০টার পর আর বাইরে না থাকেন। কখন কোথায় নিখোঁজ হন এই আতঙ্কে ভুগছেন দলের নেতারা।

এদিকে পুলিশ বলছে, ইলিয়াসকে খোঁজার চেষ্টা তাদের অব্যাহত আছে। রোববার ঢাকা মহানগর হাকিম মনিরুজ্জামানের আদালতে জমা দেয়া তদন্তের অগ্রগতি সংক্রান্ত প্রতিবেদনে এ কথা জানান মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা বনানী থানার পরিদর্শক মাইনুল ইসলাম।

গত বৃহস্পতিবার ইলিয়াস আলীর নিখোঁজ হওয়ার বিষয়ে তদন্তের অগ্রগতি প্রতিবেদনে প্রতি ৪৮ ঘণ্টা পর আদালতে দাখিলের নির্দেশ দেয়া হয়। তার স্ত্রী তাহমিনা রুশদী গত বুধবার বনানী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। তদন্ত কর্মকর্তা ঘটনাটির তদন্তের বিষয়ে আবেদন করলে আদালত ওই নির্দেশ দেন।

রোববার বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ইলিয়াসকে খুঁজে বের করার নামে সরকার নাটক করছে। অন্যদিকে আওয়ামী লীগ নেতা মতিয়া চৌধুরী বলেছেন, ইলিয়াসকে পুঁজি করে বিরোধী দল রাজনীতি করছে। মাহবুবুল আলম হানিফ বলেছেন, রাজনীতি অশান্ত করতে ইলিয়াস নাটক সাজিয়েছে। এদিকে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট শামসুল হক টুকু বলেছেন, ইলিয়াসকে সরকার সর্বশক্তি দিয়ে উদ্ধার করবে। স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্যে অনেকে আশার আলো দেখছেন।

সাধারণ মানুষের কথা হলো, ইলিয়াসকে খুঁজে বের করা হোক। আর এই দায়িত্ব সরকারেরই। আওয়ামী লীগের নেতা আবদুল জলিলও একথাই বলেছেন। শুধু রাজনীতি নয়, গোটা দেশে ইলিয়াসের নিখোঁজের ঘটনা নিয়ে যে অরাজকতা, অশান্তি ও উৎকণ্ঠার জন্ম হয়েছে তার সমাধান একটাই- ইলিয়াসকে খুঁজে বের করা। সাধারণ মানুষ বলছে, এটা না হওয়া পর্যন্ত অরাজকতার পারদ বাড়তেই থাকবে।

তার লক্ষণও দেখা দিয়েছে। বিএনপি সোমবারও হরতাল ডেকেছে। জানা গেছে, হরতাল যাতে আর না হয় সে লক্ষ্যে সরকার রোববার বড় রকমের কোনো অ্যাকশনে যায়নি। পুলিশের ভূমিকা তাই প্রমাণ করেছে। কিন্তু বিএনপি মানেনি। তারা সোমবারও হরতাল ডেকেছে। এই হরতাল কি আরো বাড়বে? এই প্রশ্নও ওঠছে। বিএনপির মধ্যে একটি গ্রুপ মনে করে, হরতাল চালিয়ে যেতে হবে। তা না হলে ইলিয়াসকে ফিরে পাওয়া যাবে না। তারা বলছে, এইচএসসি পরীক্ষা তো দু’দিন বাতিল হলো। আরো ক’দিন হলে অসুবিধা নেই। এই গ্রুপটি মনে করে ইলিয়াসের ঘটনায় জনগণ ক্ষুব্ধ। কাজেই হরতাল তারা মেনে নেবে।

ইলিয়াস আলীর উদ্ধার যতো দেরি হচ্ছে, ততই নানা গুজব ডালপালা মেলছে। আর এই ধরনের বার্নিং ইস্যুতে এটা হওয়াই স্বাভাবিক বলেই মনে করেন রাজনৈতিক নেতারা।

আওয়ামী লীগের একটি বড় অংশই ইলিয়াসকে খুঁজে বের করার পক্ষে বলে দাবি করেছে দলের একটি সূত্র। আইন প্রতিমন্ত্রী কামরুল ইসলাম শনিবার বলেছিলেন, এই ঘটনায় তারা বিব্রত। এমনিতে আওয়ামী লীগের নেতারা রাজনৈতিক বক্তব্য হিসেবে এই বিষয়ে যাই বলুন না কেন- তারা ইলিয়াসকে খুঁজে পেতে আন্তরিক বলে দাবি করেছেন দলের একজন নেতা।

বিশিষ্ট আইনজীবী শাহদীন মালিক বলেন, দেশের স্থিতিশীলতা এবং একটি দমবন্ধ অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসার জন্য সরকারি ও বিরোধীদল উভয়কেই কাজ করতে হবে। তিনি বলেন, এর জন্য দুই প্রধান দলের নেতাদের শত্রুতা মনোভাব থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। তিনি বলেছেন, ইলিয়াসকে খুঁজে বের করলে পরিবেশ অনেকটাই শান্ত হবে।

সাবেক আইজিপি ড. এনামুল হক বলেছেন, বর্তমান অচলাবস্থা থেকে বের হতে হলে ইলিয়াসকে খুঁজে বের করতেই হবে। তা না হলে ঠিক কী হয় তা নিয়ে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।